বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL 2025) এর চতুর্থ ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স নাটকীয়ভাবে শেষ বলে ১ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস এর বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হারের পর এটি সিলেটের প্রথম জয়। অন্যদিকে, নোয়াখালী তাদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল।
টস জিতে সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথমে বোলিং নেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে আটকে রাখে সিলেটের বোলাররা। খালেদ আহমেদ ৪ উইকেট নেন দুর্দান্ত বোলিং করে। সাইম আইয়ুব ২টি এবং মোহাম্মদ আমির ১ উইকেট পান।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ইনিংস: অঙ্কনের অপরাজিত ফিফটি
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নোয়াখালী। ওপেনার মাজ সাদাকাত ও হাবিবুর রহমান সোহান শূন্য রানে আউট হন। হায়দার আলীও রানের খাতা খুলতে পারেননি। পাওয়ারপ্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান তোলে তারা।
এরপর সৈকত আলী ২৪ রান করে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। শেষ দিকে জাকের আলী অনিকের সঙ্গে জুটি গড়ে রানের গতি বাড়ান তিনি। জাকের ১৭ বলে ২৯ রান করে ফিরলেও অঙ্কন শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তোলে নোয়াখালী।
সিলেট টাইটান্সের রোমাঞ্চকর চেজ: ইমনের ফিফটি ও রানার হ্যাটট্রিক
১৪৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। প্রথম ওভারে ওপেনার সাইম আইয়ুব ২ বলে শূন্য রানে আউট। আরেক ওপেনার রনি তালুকদার ৭ বলে ৯ রান করে ফেরেন।
এরপর ক্রিজে আসেন পারভেজ হোসেন ইমন ও জাকির হাসান। জাকির ১২ বলে ১৩ রান করে আউট হলে অধিনায়ক মেহেদী মিরাজের সঙ্গে জুটি গড়েন ইমন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন তারা। ৪১ বলে ৬০ রান করে ইমন আউট হন দলের ১১৭ রানে।
পরে ইথান ব্রুকসের সঙ্গে জুটি গড়েন মিরাজ। কিন্তু ১৮তম ওভারে খেলা পাল্টে দেন নোয়াখালীর মেহেদী হাসান রানা। ওভারের শেষ তিন বলে মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও খালেদ আহমেদকে আউট করে বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ম্যাচে ৪ উইকেট নেন রানা।
শেষ দুই ওভারে সিলেটের দরকার ১৯ রান। ১৯তম ওভারে ৬ রান আসে। শেষ ওভারে দরকার ১৩। বোলিংয়ে সাব্বির হোসেন। প্রথম দুই বল ডট। পরের বলে নো-বল ও ফ্রি হিটে ছক্কা ও চার মেরে ব্রুকস সমীকরণ সহজ করেন। কিন্তু রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ব্রুকস (১৩ বলে ১৬)।
শেষ বলে দরকার ২ রান। স্ট্রাইকে সালমান ইরশাদ। ওয়াইড থেকে এক রান নিয়ে দৌড়ে দ্বিতীয় রান পূরণ করে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন সিলেট। ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান তুলে জয় পায় তারা।
নোয়াখালীর হয়ে রানা ৪ উইকেট ছাড়াও হাসান মাহমুদ ২টি, জাহির খান ও রেজাউর রহমান রাজা ১টি করে উইকেট নেন।
এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে পারভেজ হোসেন ইমনের ফিফটি এবং শেষ ওভারের নাটকীয়তা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। বিপিএলের এবারের আসরে এটি একটি স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে রইল।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মেহেদী হাসান রানা (হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও দল হারায়) অথবা সিলেটের কোনো খেলোয়াড় – ম্যাচের উত্তেজনায় ভক্তরা এখনো আলোচনা করছেন!
